হস্ত মৈথুনের ক্ষতিকর দিক বা প্রভাব

(হস্ত মৈথুনের ক্ষতিকর দিক)

হস্ত মৈথুন বলতে বোঝায় নিজ হাত দিয়ে যৌনাঙ্গের মাধ্যমে নিজে নিজে যৌন সুখ উপভোগ করা। অথবা, হস্ত মৈথুন হচ্ছে এমন এক যৌনক্রিয়া বিশেষ, যেখানে একজন ব্যক্তি কোনো সঙ্গী বা সঙ্গিনীর অংশগ্রহণ ছাড়াই যৌনসুখ অর্জনের চেষ্টা করে থাকে।

এছাড়া আরো ভালো ভাবে বলা যায়। হস্তমৈথুন হলো যৌন মিলনের এমন এক রূপ যা কোন পুরুষ বা কোন মহিলা তার বিপরীত লিঙ্গের অংশগ্রহণ ছাড়াই যৌন আনন্দ উপভোগ করার চেষ্টা করে থাকেন।

যেহেতু একজন পুরুষ বা মহিলা নিজের লিঙ্গটি নিজের হাত দিয়ে ঘষেই যৌন আনন্দ উপভোগ করার চেষ্টা করে তাই এটাকে হস্তমৈথুন বলা হয়। আমাদের মাঝে অনেকেই বুঝে বা না বুঝে এই হস্তমৈথুন করে থাকেন।

হস্তমৈথুনকে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই বিভিন্ন সময়ে শৈল্পিক ভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে। পাশাপাশি, অনেক প্রাচীন রচনাতেও এর কথা উঠে এসেছে। অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতকে কিছু ইউরোপীয় ধর্মতাত্ত্বিক এবং চিকিৎসকগণ হস্তমৈথুনকে জঘন্য, শোচনীয় এবং ভয়ঙ্কর হিসেবে উল্লেখ করেন।

বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, মাস্টারবেশন এমন একটি বিষয় যা নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। কিন্তু কেউ যদি মাত্রাতিরিক্ত বা নির্দিষ্ট পরিমাণের বাইরে হস্তমৈথুন করেন, তবে তা শরীরের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর।

আর অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের ফলে মূলত দুই ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকে।

  • প্রথমত: শারীরিক ক্ষতি।
  • দ্বিতীয়ত: মানসিক ক্ষতি।

চলুন তাহলে হস্তমৈথুনের শারীরিক ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে একটু বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি-

শারীরিক ক্ষতি

হস্তমৈথুনের ক্ষতিকর প্রভাব

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়:- যারা অতিরিক্ত হস্তমৈথুন করেন তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। কারণ, শরীরের digestive system, urinary system, Nervous system, heart এবং আরও অন্যান্য system গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় । ফলে পুরো শরীর আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে যায় এবং তখন শরীরে বিভিন্ন রোগ জীবাণু বাসা বাঁধত শুরু করে।

এছাড়া হস্তমৈথুনের সময় শরীর থেকে অনেকগুলো স্পার্ম বেরিয়ে যায়, ফলে শরীরের টেসটোস্টেরন হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকের থেকে অনেকটা কমে যায়। এই হরমোনই হজম ক্ষমতা ভালো রাখতে ও পেশির জোর বাড়াতে সাহায্য করে ৷

আর, হজম ক্ষমতা কমে গেলে খাওয়ার প্রতি চাহিদা কমে যায়, পেশি দুর্বল হয়ে যায়, শরীর সবসময় ক্লান্ত থাকে। তাই শরীরকে শক্তিশালী ও কর্মঠ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে অতিরিক্ত হস্তমৈথুন কোনভাবেই কাঙ্খিত নয়।

নার্ভের ক্ষতিহয় :- হস্ত মৈথুনের অন্যতম একটি ক্ষতিকর দিক নার্ভের ক্ষতি হয়। যারা অল্প বয়স থেকে হস্তমৈথুন করে তাদের লিঙ্গের নার্ভ গুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। যার কারণে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই নার্ভ গুলো আর আগের মতো ভালো কাজ করতে পারে না।

ফলে যৌন ক্ষমতা কমে যায়। এছাড়া, অতিরিক্ত হস্তমৈথূনের ফলে যৌনক্রিয়ার সাথে জড়িত স্নায়ুতন্ত্র গুলোও আস্তে আস্তেদুর্বল হয়ে পড়ে। অধিকাংশ সময় যৌনরোগও দেখা দেয় পুরুষ বা নারী উভয় হস্তমৈথুন কারীর মধ্যে।

আবার, অতিরিক্ত হস্তমৈথুন করলে যৌনাঙ্গের পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গ গুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার ফলে শরীর আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এই সময় বিয়ে করলে বিবাহিত জীবনও সুখের হয় না, সংসারে বিভিন্ন অশান্তি লেগেই থাকে।

বৈবাহিক জীবনে অসুখী:- অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের ক্ষতিকর প্রভাব বিয়ের পরবর্তী জীবনে এসেও প্রভাব ফেলে। কারণ, নিয়মিত হস্তমৈথুন করার ফলে অনেক আগে থেকেই শরীর থেকে বীর্য ক্ষরণ হতে থাকে।

যার ফলে, বীর্য ধীরে ধীরে পাতলা হয়ে যায়। আর স্বাভাবিকভাবেই, বীর্য পাতলা হওয়ার কারণে বিয়ের পর সেই বীর্য দিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া সম্ভব হয় না। যার ফলে তার বৈবাহিক জীবন অসুখী থেকে, যায় সংসারে ঝামেলা লেগে।

এছাড়াও, অকাল বীর্যপাত, অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের মধ্যে বীর্যপাত ঘটে। ফলে, স্বামী তার স্ত্রীকে যথেষ্ট পরিমাণ খুশি করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। এই জন্য বৈবাহিক সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয় না।

কানে কম শোনা:- যারা অতিরিক্ত হস্তমৈথুন করে তাদের অনেকেই কানে কম শোনে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে এই রোগটি স্থায়ীও হয়ে যেতে দেখা যায়। এছাড়া, অতিরিক্ত হস্তমৈথুন করার ফলে আস্তে আস্তে নাকের ঘ্রাণ শক্তিও হ্রাস পায়।

লিঙ্গ বেঁকে যায়:- যারা অতিরিক্ত হস্তমৈথুন করেন তাদের লিঙ্গ বেঁকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণ, অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের ফলে লিঙ্গের টেন্ডন ও লিগামেন্ট পেশির মারাত্মক ক্ষতি হয়। যার ফলে, লিঙ্গ বেঁকে যায়।

এছাড়া বিভিন্নভাবে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, লিঙ্গ হালকা বেঁকে যাওয়ার পরেও যদি কেউ হস্তমৈথুন করা ছেড়ে না দেয়, তাহলে তার লিঙ্গ আরও বেঁকে যেতে থাকবে। যার ফলে সে বিবাহিত জীবনে সম্পূর্ণভাবে সহবাস করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। এছাড়াও, এতে তার লিঙ্গ হালকা ছোটও হয়ে যায়।

চোখের সমস্যা হয়:- মাত্রা অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের অন্যতম একটি বড় ক্ষতিকর প্রভাব হলো, চোখে কম দেখা বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া। এছাড়া, চোখের দৃষ্টি পরিষ্কার হওয়ার পরিবর্তে কখনও কখনও চোখে ঝাপসা দেখা, ঘোলাটে ভাব ইত্যাদি লক্ষ্য করা যায়। আবার, মাথা ব্যথা, চোখে ব্যাথা, শরীর দুর্বল অনুভব করা সহ আরো বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

সন্তান জন্মদানে অক্ষম হয়ে পড়ে:- আমরা জানি, একজন পুরুষ যখন স্ত্রীকে রমন করে তখন তার পুরুষাঙ্গ থেকে যে পরিমাণ বীর্য বের হয় সেই বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা থাকে প্রায় ৪২ কোটির মত। কিন্তু আজকের বিজ্ঞান বলছে, কোনও পুরুষের বীর্যৈ যদি ২০ কোটির কম শুক্রাণু থাকে, তাহলে ওই পুরুষ সন্তান জন্ম দানে পুরোপুরিভাবে অক্ষম হয়ে পড়ে।

আর অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের ফলে বীর্য পাতলা হয়ে যায়। ফলে বীর্যৈ শুক্রাণুর সংখ্যা কমে 20 কোটির নিচে নেমে যায়। আর, তখনই একজন পুরুষ সন্তান জন্মদানে অব্যর্থ হয়ে পড়ে।

হজম শক্তি কমে যায়:- হস্ত মৈথুনের আরো একটি অন্যতম ক্ষতিকর দিক হলো পাকস্থলীর হজম ক্ষমতা কমে যাওয়া। অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের ফলে একজন মানুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে থাকে। যার ফলে হজম ক্ষমতা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।

হস্ত মৈথুনের ক্ষতিকর দিক

মানসিক ক্ষতি

অতিরিক্ত হস্তমৈথূনের কারণে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সাথে সাথে নানারকম মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে শুরু করে। যেমন:

মন খারাপ হয়:- অনেকে নিজের যৌন তাড়নায় পড়ে হস্তমৈথুন করে ফেলে। কিন্তু তার পরেই আবার খারাপ লাগা শুরু হয়।

আবার, বেশিরভাগ মানুষই হস্তমৈথুন করার সময় কল্পনায় কাউকে না কাউকে ভেবে নেয়। অনেকেই আছে যারা কাছের কাওকে এ ক্ষেত্রে পছন্দ করে থাকে। তাই যৌন উত্তেজনা কমে যাওয়ার পর কল্পনা করা ব্যক্তিকে নিয়েও মনের মধ্যে খারাপ লাগা শুরু হয় এবং একটি অন্যরকম মানষিক যন্ত্রনায় ভুগতে থাকে।

তাই হস্তমৈথুন করার সময় কিছুটা ভালো লাগলেও, উত্তেজনা শেষ নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয় এবং অনেক মন খারাপ হয়।

স্মৃতিশক্তি কমে যায়:- মাত্রা অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের ফলে অনেক নার্ভের ক্ষতি হয়। যার ফলে অনেকেরেই স্মৃতি শক্তি কমে যাওয়া জনিত সমস্যা দেখা দেয়।

কারণ, অতিরক্ত হস্তমৈথুনের ফলে মস্তিষ্কে অ্যাসিটাইলকোলিন হরমোন নিষ্কাশন বেড়ে যায়। যেটা একটি নিউরোট্রান্সমিটার শরীর এসিটইলকোলিনকে স্ট্রেস অ্যাড্রেনালিনের সাথে প্রতিস্থাপন করে।

যা স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং মনোযোগের অভাব ঘটাতে সাহায্য করে। তাই অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের ফলে স্মৃতিশক্তি কমে যেতে পারে। আবার, কখনও কখনও বিকৃত মানসিকতারও জন্ম দেয় এই হস্তমৈথুন।

নারী এবং পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত হস্তমৈথুন তাদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। তাই আমাদের অবশ্যই হস্তমৈথুন থেকে বিরত থাকা উচিত। পাশাপাশি চেষ্টা করতে হবে হস্তমৈথুনকে পুরোপুরি বর্জন করা।

হস্ত মৈথুনের ক্ষতিকর দিক

সামারি

অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল হয় না, অতিরিক্ত সমস্ত কিছুই খারাপ। হস্তমৈথুনের ক্ষেত্রেও একই কথা। বর্তমান সময়ের তরুণ ছেলে-মেয়েরা হস্তমৈথুনের ঝুঁকিতে বেশি। তাই অতিরিক্ত হস্তমৈথুন আজকের তরুণ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হস্তমৈথুন এমন একটি অভ্যাস, যদি কেউ একবার শুরু করে তাহলে ত্যাগ করা খুব কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। শুধু তাই নয়, এই অভ্যাসটি অনেকের যৌন জীবন বিপর্যস্ত করে তোলে।

অনেক চিকিৎসকও এটাকে খুব বাজে এবং ক্ষতিকর অভ্যাস বলে চিহ্নিত করেছেন। তাই প্রত্যেকের উচিৎ অতিরিক্ত হস্ত মৈথুনের ক্ষতিকর দিক বা প্রভাব সম্পর্কে জানা।

Leave a Comment